পাইকগাছা প্রতিনিধি : - খাঁচার ভেতর ছটফট করছে কয়েকটি ছোট কবুতরের ছানা। ক্ষুধায় মুখ বাড়িয়ে আছে তারা। অথচ খাবার নিয়ে আসার মতো মা-বাবা কবুতরগুলো আর নেই। রাতের আঁধারে ছয়টি কবুতর চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রেখে গেছে তাদের কোলে থাকা ছোট ছোট ছানাগুলোকে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের আমানউল্লাহ আমানের বাড়িতে ঘটেছে এমন ঘটনা। শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে ছয়টি গিরিবাজ জাতের কবুতর চুরি হয়েছে। আমানউল্লাহর হিসাব অনুযায়ী, চুরি যাওয়া কবুতরগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
তবে কবুতর চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ছোট ছানাগুলো। মা-বাবা কবুতরগুলো প্রতিদিন যেভাবে ছানাদের খাবার খাওয়াত, পরিচর্যা করত, এখন সেই সুযোগ নেই। হঠাৎ করেই তাদের বাসা হয়ে উঠেছে নিঃসঙ্গ। কখনো ডানা ঝাপটাচ্ছে, কখনো খাবারের আশায় মুখ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু মা-বাবার দেখা মিলছে না।
আমানউল্লাহ আমান জানান, চুরির ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন আগে দুই ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে কবুতর কেনার জন্য এসেছিলেন। তাঁরা কবুতর দেখতে চান এবং কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু তিনি কবুতর বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা ফিরে যান।
এর পাঁচ দিন পর শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে ছয়টি কবুতর চুরি হয়ে যায়। এ কারণে ওই দুই ব্যক্তির বিষয়ে তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানান আমানউল্লাহ। তবে তাঁরা চুরির সঙ্গে জড়িত এমন কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই।
তিনি বলেন, ওই দুজন কয়েক দিন আগে কবুতর কিনতে এসেছিল। আমি বিক্রি করিনি। এরপরই রাতে ছয়টি কবুতর চুরি হয়ে গেল। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের বিষয়ে সন্দেহ হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।
আমানউল্লাহর কাছে কবুতরগুলো ছিল শখের পাশাপাশি ভালোবাসারও। তাই ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা থাকলেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ছানাগুলোকে নিয়ে।
চুরি যাওয়া কবুতরগুলোর মধ্যে যেসব মা-বাবা কবুতরের সঙ্গে ছানা ছিল, সেগুলোকে না নিয়ে যাওয়ায় ছানাগুলো এখন একা হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকগুলো এখনও নিজে খাবার সংগ্রহ করার মতো বড় হয়নি।
আমানউল্লাহর স্ত্রী বলেন, কবুতরগুলো নিয়ে গেছে, এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ছোট ছানাগুলোকে রেখে যাওয়ায় বেশি খারাপ লাগছে। ওরা তো জানেই না, কেন তাদের মা-বাবা আর ফিরে আসছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পোষা কবুতর চুরির ঘটনাটি সাধারণ কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাড়িতে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে কবুতর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার কয়েক দিন আগে কবুতর কেনার জন্য আসা ব্যক্তিদের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে শুধু কবুতর চুরির রহস্যই উন্মোচিত হবে না, অসহায় ছানাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও হয়তো কিছুটা স্বস্তি ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা আমানউল্লাহ ও তাঁর পরিবারের।


0 Comments