পাইকগাছা প্রতিনিধি : - বছরের পর বছর সরকারি খাতায় জমি থাকলেও বাস্তবে ছিল বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে। কোথাও ধানের চাষ, কোথাও মাছের ঘের। সরকারি রাজস্বও ঠিকমতো আদায় হচ্ছিল না। খুলনার পাইকগাছায় এমন ৫৫০ একর ভিপি (অর্পিত) জমি উদ্ধার করে ইজারা দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। এতে দুই অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ১৬ হাজার ৮৩০ টাকা।
তবে এখানেই শেষ নয়। উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় এখনো বিপুল পরিমাণ ভিপি ও সরকারি খাসজমি রয়েছে। সেগুলোও উদ্ধারে কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ভূমি অফিস।
পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় ভিপি লিজ মামলার আওতায় রয়েছে ৪ হাজার ১৫৫ একর জমি। এসব জমি ‘ক’ তফসিলভুক্ত সরকারি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এসব জমির একটি অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখলে রেখে ধান ও মাছ চাষ করে আসছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্বও যথাযথভাবে আদায় হচ্ছিল না।
ফলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু করে উপজেলা ভূমি অফিস।
২০২৫ সালের অক্টোবরে পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন ফজলে রাব্বি। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি ভিপি ও খাসজমি উদ্ধারে কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
প্রথমে বিভিন্ন মৌজায় থাকা ভিপি জমির ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির তালিকা যাচাই করা হয়। এরপর সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করা হয়।
পরিমাপের পর দখলমুক্ত করে জমিতে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এভাবেই দীর্ঘদিনের দখল থেকে জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
উদ্ধার করা জমির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় ভূমি অফিস।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভিপি জমি উদ্ধারের কার্যক্রম চালিয়ে ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৩০২ টাকা।
এর পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে উদ্ধার করা ৫৫০ একর ভিপি জমি ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করা হয় ১ কোটি ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫২৮ টাকা।
দুই অর্থবছর মিলিয়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ১৬ হাজার ৮৩০ টাকা।
ইজারাগ্রহীতারা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য এককালীন সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে জমির দখল বুঝে নিয়েছেন। সরকারি শর্ত মেনে তাঁরা ইজারাকৃত জমি ভোগদখল করছেন।
ইজারাদার রেজাউল মোড়ল বলেন, সরকারের সব শর্ত ও নিয়ম মেনে আমরা ১০ দশমিক ৬০ একর জমি ইজারা নিয়েছি। ইজারাকৃত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছি।
ভিপি জমির পাশাপাশি গত দুই বছরে উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ১ হাজার ৫৩৫ একর সরকারি খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস।
তবে বর্তমানে সরকার খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ফলে উদ্ধার করা এসব জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা জমি ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায়ের সুযোগ পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সরকারি ভিপি সম্পত্তি উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে। বছরের পর বছর দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধারের ফলে একদিকে যেমন সরকারের সম্পত্তি ফিরে এসেছে, অন্যদিকে ইজারা দিয়ে আদায় হয়েছে বিপুল রাজস্ব।


0 Comments