শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন : দ্রুত পদক্ষেপে না নিলে অপূরনীয় ক্ষতির আশংকা

 





আশাশুনি প্রতিনিধি  :-

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের বৈরামপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। জোয়ার ভাটার প্রবল স্রোতে সৃষ্ট ভাঙনে ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫০-২০০ ফুট চরের মাটি ধ্বসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার মানুষের চলাচলের মূল পিচের সড়কে  আঘাত হানতে অবশিষ্ট আছে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ফুট। দ্রুত ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি, দরগাপুর,কুল্যা ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী তালা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।ভেসে যেতে পারে কয়েক শত কোটি টাকা মূল্যের চিংড়ি মাছের ঘের।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেতনা নদীর বেড়িবাঁধটি একটি কার্পেটিং এর সড়ক হিসেবে উত্তর দিকে কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি সেতু ও দক্ষিণ দিকে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া বাজার গিয়ে শেষ হয়েছে। গত কয়েক মাসের অব্যাহত ভাঙ্গনে ওয়াপদার পাশের চর নদী গর্ভে বিলীন হতে হতে সড়কের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। কোথাও কোথাও সড়কের একেবারে কাছাকাছি এসে মাত্র ৫/৬ ফুট অবশিষ্ট আছে। 

বৈরামপুর জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান,  ২৫/৩০ ফুট গভীর হয়ে নদীর চর ভাঙছে। অবশিষ্ট আর কয়েক ফুট ভাঙলেই পিচঢালা সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে জোয়ারের পানিতে লোকালয় প্লাবিত হয়ে যাবে। সড়কটি ভেঙে গেলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না আশাশুনির কাদাকাটি, কুল্যা ও দরগাহপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা জমির মাছের ঘের, ফসলাদি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনষ্ট হয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়বে। 

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে শুধু আশাশুনির ৩ ইউনিয়ন নয় পার্শ্ববর্তী তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সড়ক থেকে মাত্র ৬-৭ ফুট দূরেই ভাঙন চলে এসেছে। ভাঙনের গভীরতাও অনেক বেশি। আর সামান্য ভাঙলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, প্রায় দু'মাস আগে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য  মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সরেজমিনে ভাঙনস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এর কয়েকদিন পর একজন সার্ভেয়ার এসে ভাঙনস্থল পরিমাপও করে যান। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভাঙন প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “নদী ভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নদী ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

Post a Comment

0 Comments