শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

পাইকগাছায় আরএফএল বিক্রয় প্রতিনিধি হত্যায় আরও এক সন্দেহভাজন আটক

পাইকগাছা প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় আরএফএল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্বপন বাগচি নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে তাঁকে পাইকগাছা থানায় আনা হয়।


পুলিশের দাবি, বিশ্বজিৎ দেউড়ী হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে স্বপন বাগচিকে আটক করা হয়েছে। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাক গ্রামের মৃত ঠাকুর বাগচির ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ী ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ধীরালাল দেউড়ী। তিনি আরএফএল কোম্পানির ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে পাইকগাছায় কর্মরত ছিলেন।


গত ২০ জুলাই গভীর রাতে পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকায় রামপ্রসাদ মণ্ডলের ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়। ওই কক্ষে তাঁর সঙ্গে একই কোম্পানির সহকর্মী অন্তর সরকারও থাকতেন। ঘটনার রাতে দুজনই ওই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।


পরদিন সকালে বিশ্বজিতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে তাঁর সহকর্মী ও রুমমেট অন্তর সরকার নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।


ঘটনার পর ২১ জুলাই রাত নয়টার দিকে ডিবি পুলিশ ও পাইকগাছা থানা-পুলিশ যৌথভাবে বিশ্বজিতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।


এ ঘটনায় নিহত বিশ্বজিতের মামা বিপুল সরকার বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে।


মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গোপালগঞ্জ সদর থেকে স্বপন বাগচিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।


পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আওয়াল কবির বলেন, ‘বিশ্বজিৎ দেউড়ী হত্যা মামলায় গোপালগঞ্জ থেকে স্বপন বাগচি নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। বিশ্বজিতের রুমমেট অন্তর সরকারের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে স্বপন বাগচির যোগাযোগ ছিল বলে কললিস্টের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্বপন বাগচির কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।


এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিশ্বজিতের সহকর্মী ও রুমমেট অন্তর সরকার নিখোঁজ থাকায় তাঁর অবস্থান ও হত্যাকাণ্ডে কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


Post a Comment

0 Comments