শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

"সংগঠক এম এ মান্নান- এক তরুণ নেতৃত্ব"



খুলনা জেলার রাজনীতিতে এক পরিচিত, তরুণ উদ্যমী, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার নাম আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে ১৯৯৯ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু।ছোটবেলা থেকেই সংগঠন, নেতৃত্ব ও সমাজসেবার প্রতি তাঁর ছিল অদম্য টান এ যেন শিরায় বয়ে চলা নেতৃত্বের রক্তস্রোত


শিক্ষা ও ছাত্রজীবনঃ

এম এ মান্নানের শিক্ষা জীবন ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ, অনুশাসনমুখী ও নেতৃত্বগুণে ভরপুর যেন এক তপ্ত আগুন, যা তাকে সময়ের পরীক্ষায় পরিণত করেছে একজন দক্ষ সংগঠকে।


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাঃ

১৯৮২ সালের ২৪ ই জুন খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বেতবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলী মিস্ত্রী ও মাতা মোছাঃ মোহরজান বেগমের সন্তান মান্নান শৈশব থেকেই ছিলেন বুদ্ধিমান, সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী। তিনি হলেন মাটির কাছ থেকে উঠে আসা এক দৃঢ় বৃক্ষ, যে ঝড়কে ভয় পায় না। তিনি প্রথমে চারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে চারবান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন।


উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শিক্ষাঃ

খুলনা সুন্দরবন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন, পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বি.এল. কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

ছাত্রজীবনেই তাঁর চোখে ছিল নেতৃত্বের দীপ্তি, কথায় ছিল দৃঢ় বিশ্বাসের এক দীপ্ত প্রদীপ, যা অন্ধকারেও পথ দেখায় সহপাঠীদের।


ছাত্রদলীয় কর্মকাণ্ডঃ

রাজনীতির মাঠে এম এ মান্নান দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এক সংগঠিত, আদর্শবান ও ত্যাগী নেতা হিসেবে।

নিজ উপজেলা পাইকগাছা থেকে ৬৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে খুলনা জেলা শহরের রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়া ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বড় লড়াই। রাজনীতির উত্তাল সাগরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অদম্য নাবিক, যিনি ঝড়কে পরাজিত করে দিক খুঁজে নেন নিজের তারায়।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক কণ্ঠ।১৯৯৯ সালে খুলনার সুন্দরবন কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি জানান দেন তাঁর আগমনী বার্তা। এক নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সূচনা।২০০২ সালে খুলনা জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৩-০৪ সালে খুলনা সুন্দরবন কলেজ ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জি.এস) নির্বাচিত হয়ে ছাত্র রাজনীতির রাজপথে স্থাপন করেন নিজের দৃঢ় অবস্থান।

২০১১ সালে খুলনা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ (২০১৬–২০২৪) সময় তিনি জেলা ছাত্রদলের সফল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর নেতৃত্বে খুলনা জেলা ছাত্রদল হয়ে ওঠে ঐক্যের প্রতীক, আন্দোলনের শিখা যা অন্ধকারে জ্বলতে থাকা গণতন্ত্রের মশাল।সহকর্মীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নেতৃত্বের মমতা তাঁকে করে তুলেছে সকলের শ্রদ্ধাভাজন ও সর্বজন প্রিয় এক নাম। 


বর্তমান দায়িত্বঃ

বর্তমানে (২০২৫) এম এ মান্নান খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি সংগঠনের ভেতরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ঐক্যের বার্তা ও কর্মীদের মাঝে সাহসের আলো।

রাজনীতির ঝড়ো হাওয়াতেও তিনি রয়েছেন অবিচল - রাজপথের এক বৃক্ষ, যার শিকড় গভীরে গাঁথা আদর্শের মাটিতে।তাঁর নেতৃত্বে খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অগ্রভাগে এক দৃপ্ত বাহিনী।


 আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ

এম এ মান্নান আপাদমস্তক জাতীয়তাবাদী আদর্শের ধারক ও বাহক।তিনি বিশ্বাস করেন, একজন প্রকৃত সংগঠক কখনও স্বার্থপর হয় না; সে কাজ করে মানুষের জন্য, দলের জন্য, দেশের জন্য।

তাঁর মূল নীতি—“সংগঠনের শক্তি ব্যক্তির ক্ষমতায় নয়, কর্মীর ভালোবাসায়।”

তিনি মনে করেন তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাতিঘর- তাদের হাতে গড়ে উঠবে আগামী বাংলাদেশ।তাঁর ভাবনায় রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব; আর নেতা মানে অন্ধকারে আলো জ্বালানো এক প্রদীপ।


বিশ্বাস ও দৃঢ়প্রত্যয়ঃ

এম এ মান্নান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সংগঠনের শক্তি আসে ঐক্য, ত্যাগ ও আদর্শ থেকে।জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসারে তাঁর উদ্যোগে ২০১৮ সালে পাইকগাছায় প্রতিষ্ঠিত হয় “আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি পরিষদ ও পাঠাগার” যা তরুণ প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের এক বাতিঘর।

তাঁর স্বপ্ন- গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।তিনি নিজেকে দেখেন এক সংগ্রামী সৈনিক হিসেবে, যার অস্ত্র কলম ও কণ্ঠ, যার শপথ সত্যের বিজয়।


সামাজিক অবদান ও মানবিকতাঃ

রাজনীতির পাশাপাশি এম এ মান্নান সমাজ ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে সক্রিয়।অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর অভ্যাস, মানবিকতার স্রোত যেন তাঁর রক্তে মিশে আছে।কোভিড-১৯ মহামারীতে তাঁর অবদান স্মরণীয় ও প্রশংসনীয়।তিনি শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন নিরলসভাবে।একজন “পরিবেশ যোদ্ধা” হিসেবে নিজ অর্থায়নে গাছ লাগিয়েছেন স্কুল, কলেজ ও রাস্তার ধারে। প্রকৃতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের সবুজ সাক্ষ্য।তরুণদের সমাজসেবায় যুক্ত করতে তিনি কাজ করছেন এক অবিরাম প্রেরণার উৎস হয়ে।


গুম, জেল-জুলুম ও কারাবাস জীবনঃ

এম এ মান্নান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, এক অদম্য সৈনিক।রাজপথের প্রতিটি ইট জানে তাঁর পদচারণার ইতিহাস, প্রতিটি স্লোগানে বাজে তাঁর প্রতিবাদের ধ্বনি।২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর এক কালো দিন।

খুনি হাসিনার দোসর ডিবি হারুনের বাহিনী তাঁকে খুলনার নিজ বাসা থেকে গুম করে।প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে; রাজপথে ফেটে পড়ে ক্ষোভ।

তিন দিন পর তাঁকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ আদালত দেয় সাত দিনের রিমান্ড—আর সেই রিমান্ডেই শুরু হয় নির্যাতনের ভয়ংকর অধ্যায়।সেই সাত দিন যেন ছিল সাত শতাব্দীর অন্ধকার।তিনি হারান শ্রবণ শক্তি, স্বাভাবিক চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়েন তবুও হার মানেননি।

কারাগারের প্রতিটি দেয়াল জানে তাঁর ধৈর্যের প্রতিধ্বনি।কেরানীগঞ্জ, খুলনা, কাশিমপুর কারাগার থেকে কারাগারে ঘুরে বেড়ালেন ১০৫ দিন।

অবৈধ সরকারের সাজানো ৭ মামলার আসামি হয়েও তাঁর চোখে ভয়ের ছায়া নেই, বরং জ্বলছে আগুনের মতো সাহস।জেল-জুলুম তাঁকে দমাতে পারেনি; বরং তাঁর আদর্শকে করেছে আরও দীপ্ত।তাঁর জীবন প্রমাণ করে —“সত্যের যাত্রা হয়তো কঠিন, কিন্তু তার গন্তব্য আলোকিত।”


সারকথা:

এম এ মান্নান শুধু একজন রাজনীতিক নন; তিনি এক আদর্শের প্রতিমূর্তি, এক প্রতিরোধের প্রতীক।যে মানুষ রাজপথে দাঁড়িয়ে অন্ধকারে আলো জ্বালাতে জানে,যে নেতা ত্যাগে, ভালোবাসায়, সাহসে নির্মাণ করে পথচলার ইতিহাস-তিনি আজ খুলনার রাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণার নাম,তরুণদের কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি,এক অদম্য সংগঠক, যার হাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খুঁজে পায় গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়।

এম এ মান্নান এক আদর্শিক রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো। সে ঝড়ের মাঝে এক অবিচল বৃক্ষ, বজ্রনির্ভীক সৈনিক, রাজপথের দুঃসাহসী কণ্ঠস্বর।

এম এ মান্নান শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বিএনপির চেতনায় অটল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটা নাম, একটা ইতিহাস, একটা আদর্শ। যিনি অন্ধকার সময়ে জাতিকে দেখিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদের আলোকশিখা।

যিনি বলেছিলেন “বাংলাদেশ আমার গর্ব, আমার বিশ্বাস, আমার ভালোবাসা।”সেই আদর্শের আলোই আজ এম এ মান্নানের পথপ্রদীপ।

জিয়ার আদর্শ যেন তাঁর জীবনের দিকনির্দেশনা -যেখানে আছে দেশপ্রেমের পবিত্রতা, স্বাধীনতার অঙ্গীকার, আর গণতন্ত্রের অবিনাশী শপথ।

বিএনপি তাঁর কাছে শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়,এটা এক আদর্শিক পরিবার, এক স্বপ্নের পতাকা- যেখানে কর্মীরা সৈনিক, নেতারা অভিভাবক,আর দেশপ্রেমই তার সর্বোচ্চ ধর্ম।

এম এ মান্নান বিশ্বাস করেন—“বিএনপি সেই বৃক্ষ, যার শিকড় শহীদের রক্তে সিঞ্চিত, যার প্রতিটি পাতা স্বাধীনতার নিশ্বাসে ভরে আছে।”এই আদর্শই তাঁকে দিয়েছে দৃঢ়তা, দিয়েছে সংগ্রামের সাহস।যেমন শহীদ জিয়া বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে জন্ম দিয়েছিলেন এক স্বাধীন রাষ্ট্রের।

তেমনি এম এ মান্নানও নির্যাতনের মুখে দাঁড়িয়ে ধারণ করছেন গণতন্ত্রের পুনর্জন্মের প্রতিশ্রুতি।রাজনীতির মাটিতে এম এ মান্নান আজ সেই বীজ,যার থেকে আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলবে আদর্শিক বাংলাদেশ।

যেখানে সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতা হবে প্রতিটি নাগরিকের অঙ্গীকার।“এটা কেবল একজন নেতার জীবনী নয়, এক আদর্শের জ্যোতিষ্কের গল্প।”

লেখক : মোঃ শাহিনুর রহমান,

সদস্য (আহবায়ক কমিটি) খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। 

Post a Comment

0 Comments