শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

পাইকগাছায় এক বছরে ৬৩ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৮, আহত ৪৯

পাইকগাছা প্রতিনিধি : - খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় গত এক বছরে ছোট-বড় ৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সড়কে তদারকির অভাবকে দায়ী করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দক্ষিণ অঞ্চল পাইকগাছা শাখা।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে পাইকগাছার বাসিন্দাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনাও হিসাবে নেওয়া হয়েছে। তবে তালা ও কয়রা উপজেলায় দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।


নিসচার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাইকগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ের হিসাবে নিহতের সংখ্যা সাতজন কমেছে। তবে দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।


নিসচার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন চালানো, লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ এবং বিরতি ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো উল্লেখযোগ্য।


এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য করে ওভারটেকিং, একই সড়কে বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের চলাচল, চালকদের অদক্ষতা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।


সংগঠনটির মতে, সড়কের পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট গড়ে ওঠা, কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছার ঘাটতিও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের পথে বাধা।


নিসচার তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ফকিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন পাইকগাছা বাসস্ট্যান্ড মসজিদের খতিব মাওলানা সোলাইমান নোমানী (৫২)। একই বছরের ৩১ অক্টোবর কালীমন্দিরের পাশে দুর্ঘটনায় নিহত হন হরিদাসকাটি গ্রামের সোহরাব গাজী (৬০)। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন পাইকগাছার ফসিয়ার কলেজের শিক্ষক গোলাম আজম (৫২)।


২০২৬ সালের ২৭ মে তালায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় নিহত হন মাহমুদকাটি গ্রামের বিশ্বজিৎ দাশ (৩০)। ৩ জুন ডুমুরিয়ায় বাস পানিতে পড়ে নিহত হন লস্কর খড়িয়া গ্রামের দিনমজুর সাঈদুর (২৬)। ৭ জুলাই খুলনার পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত হন হরিদাসকাটি গ্রামের কাঁকড়া ব্যবসায়ী সনু হোড় (৬০)। ৩০ জুলাই শিববাটি সেতুর পাশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন আলমতলা এলাকার আজিজুল জমাদ্দার (৫৫)।


সর্বশেষ ২৩ আগস্ট গদাইপুর ফুটবল মাঠের সামনে বাঁশবোঝাই ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনায় নিহত হন গদাইপুর গ্রামের আবদুল্লাহ (৫২)। তালিকায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় তাঁর পেটে বাঁশ ঢুকে যায়।


নিসচা দক্ষিণ অঞ্চল পাইকগাছা শাখা জানিয়েছে, খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত ছয়টি আঞ্চলিক পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশিত হয়নি এমন দুর্ঘটনা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মৃত্যু এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর মৃত্যুর তথ্য এই পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়নি।


সংগঠনটির মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের আইন মেনে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নিয়মিত তদারকি বাড়ানো এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ প্রয়োজন।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিসচা সভাপতি শফিউল ইসলাম,  সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, ষোলআনা সমবায় সমিতির সভাপতি জি এম শুকুরুজ্জামান, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড ইকরামুল হক, দূর্ঘটনা বিষয়ক সম্পাদক এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, সদস্য হুরায়রা বাদশা, মফিজুল ইসলাম, আবু হানিফ মিলন।

Post a Comment

0 Comments