নিজস্ব প্রতিবেদক:-
রয়েছে জমি-জমার সকল বৈধ কাগজ। পেয়েছেন আদালতের রায়-ডিক্রি। তবুও দখলে পেতে হাজার প্রতিবন্ধকতা। আদালতে আইনজীবী কমিশন নিয়ে জমির মালিকানা বুঝে না পেয়ে দিশেহারা জমি মালিক। সম্প্রতি এমন ঘটনা ঘটেছে খুলনা পাইকগাছা উপজেলা বাঁকা গ্রামে।
জমির কাগজপত্র, আদালতের রায়-ডিক্রি ও ভুক্তভোগী মালিকের দেওয়া তথ্য সূত্রে দেখা যায়,খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার আরজি ভবানীপুর মৌজার এস.এ ২০৮ নং খতিয়ানে ৮৯,৯১,৮২ দাগে ৯৭ শতক জমিতে কালিপদ কর্মকার দুই আনা অংশে রেকর্ডে মালিক থাকা অবস্থায় এসে ৮২ দাগে সাড়ে ১৩ শতক জমি সহ এসে ২০৫ খতিয়ান ৯১ দাগের ৩৩ শতক জমি দুইটি দাগে মোট সাড়ে ৪৬ শতক জমি গত ইং ২৭-১২-৮৯ তারিখে ৪১১৪ নং কোবলা দলিল মূলে নরেন্দ্রনাথ কর্মকারের নিকট বিক্রয় করেন। উক্ত জমির মধ্যে বিআরএস জরিপে ৩৯১ নং খতিয়ানে ১২১ দাগে দশ শতক জমি সুকুমার কর্মকার এবং নরেন্দ্রনাথ কর্মকারের নামে এজমালীতে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। উক্ত রেকর্ডীয় জমির মধ্য হতে নরেন্দ্র কর্মকার গত ইংরেজি ৮-১-২৪ তারিখে ৫২ নং রেজিস্ট্রি কবলা দলিল মূলে সাধন কুমার কর্মকারের নিকট ৩.৩৩ শতক ও প্রতাপ কর্মকারের নিকট ১.৬৭ শতক জমি হস্তান্তর করিয়া দখল প্রদান করেন। সাধন ও প্রতাপ একত্রে ৫ শতক জমি খরিদ করিয়া ভোগ দখলীকার থাকা অবস্থায় ৩৫৪৮ (ওট-১)/২০২৩-২৪নং নামজারি কেসে ইংন৮-২-২৪ তারিখের আদশে সৃষ্ট ৬৫১ নং খতিয়ানে ৫ জমি রেকর্ড করে হাল সন অবধি কর খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। উক্ত ৩৯১ নং বিআরএস খতিয়ানের দখলি কলমে বাঁকা ভবানীপুর শশীভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের নামে দখল মর্মে লেখা আছে। সেকারনে সাধন কর্মকার ও প্রতাপ কর্মকার বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ পাইকগাছা আদালতে বাঁকা ভবানীপুর শশীভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয় সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী শ্রেণীভুক্ত করিয়া দেওয়ানি ১২৩/২৪ মোকদ্দমা দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমায় দেওয়ানী আদালত ৩০-৬-২০২৬ তারিখে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে দো-তরফাসূত্রে বিনা খরচায় ডিগ্রী প্রদান করে নালিশের তফসিলভুক্ত ৫ শতক জমি সাধন কর্মকার ও প্রতাপ কর্মকারের দখলে হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারপরও তারা পাইনি দখল। একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অনৈতিক সুবিধা না দিতে পারায় আদালতের রায় নিয়ে থেমে যেতে হলো তাদের।
ইতিপূর্বে বিআরএস ৩৯১ খতিয়ানের ১২১ দাগের জমি আইন সীমানা স্থানীয় সার্ভেয়ার মাধ্যমে মাপজোপ করিয়া সীমানা নির্ধারণের ব্যর্থ হওয়ায় বিগত ইং ৭-১২-২৩ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাইকগাছা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পাওয়ায় গত ইং ১০-১-২৪ তারিখে সরকারি কমিশনার ভূমি পাইকগাছাকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সে মতে সহকারী কমিশনের ভূমি পাইকগাছা উক্ত অফিসের সার্ভেয়ার কওছার আলীকে সরেজমিনে নরেন্দ্রনাথ কর্মকারের দাবিকৃত ও শশীভূষন দাতব্যচিকিৎসালয়ের কাগজপত্র দৃষ্টান্তে মাপ যোগ করে স্ক্রেচ ম্যাপ তৈরি করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক সার্ভেয়ার কওছার আলী উভয় পক্ষের কাগজপত্র বিশ্লেষণ পূর্বক সারা জমিনে তদন্ত করে গত ইং ২-২-২৪ তারিখে সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। সে মতো সরকারি কমিশনার ভূমি পাইকগাছা পক্ষ থেকে নালিশি বিষয়ে শোনানোর জন্য দিল ধার্য করে কাগজপত্র দাখিলী প্রতিবেদন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে নরেন্দ্র কর্মকারের জমি শশীভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের কর্তব্যরত ফার্মাসিস্ট কে আইল সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দিলে কর্মরত ফার্মাসিস্ট নরেন্দ্র কর্মকারের বিআর ১২১ দাগের জমি আইল সীমানা নির্ধারণ করে দিতে সম্মত হন। উল্লখ্য শশিভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের জমির দাগ বিআরএস ১১৯ সেকারণে বিআরএস ১২১ দাগের জমি শশিভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের প্রাচীর দিয়ে আবদ্ধ রাখলেও সেই জমির মালিকানা কোন অবস্থায় শশিভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের নয়।
কিন্তু পরবর্তীতে শশীভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের পক্ষ থেকে আইল সীমানা নির্ধারণ করে দিতে তালবাহানা করায় দেওয়ানী আদালতে মামলার উদ্ভব হয়। সে মামলাটিতেও নরেন্দ্র কর্মকারের কাছ থেকে দলিল মুলে প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আদালতের কাছ থেকে রায় ডিক্রি পেলেও সরজমিনে দখল পাননি। এমনকি তফসিলভুক্ত জমির পরিমাণ ও দখল বুঝে পাওয়ার জন্য সাধন কর্মকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ পাইকগাছা আদালত অ্যাডভোকেট সমীর কুমার বিশ্বাসকে কমিশনার নিযুক্ত করে গত ইং ২৩-৯-২৬ তারিখে সরেজমিনে উভয় পক্ষকে উপস্থিত হয়ে মাপ যোপ করে যার যার দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গেলেও বাঁকা ভবানীপুর শশীভূষণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ও স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি উক্ত উকিল কমিশনারকে মাপযোপে বাধা সৃষ্টি করেন।
এ বিষয়ে সাধন কর্মকার বলেন, আমার ন্যায্য সম্পত্তিতে আমি দখল বঞ্চিত। সমুদয় কাগজপত্র, আদালতের রায় ডিগ্রি, অবশেষ নামজারি ও খাজনা দাখিলা সবকিছু থাকার পরেও আমি আমার জমিতে দখল পাচ্ছি না।
তিনি আরো বলেন,স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আমার ন্যায্যপ্রাপ্ত বিআরএস ১২১ দাগের জমি হাসপাতালে জমি উল্লেখ করে দখল পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হাসপাতালে জমি বিআরএস ১১৯ দাগে যার সাথে আমার জমির কোন সম্পর্ক নেই।
সাধন কর্মকার আরও বলেন, আমি বর্তমান সরকার,প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করছি যাতে আমি দ্রুত আমার জমি ফিরে পেতে পারি।


0 Comments