শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

পাইকগাছায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ কিনে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিপাকে ক্যাশিয়ার!

বহিষ্কারের ষড়যন্ত্রে মামলা বললেন ক্যাশিয়ার


পাইকগাছা প্রতিনিধি: - খুলনার পাইকগাছায় মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে তাঁকে সমিতি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হারুন অর রশীদ।


অন্যদিকে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের দাবি, হারুনকে কয়েক মাস আগেই সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।


হারুন অর রশীদ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত ক্যাশিয়ার বলে জানা গেছে।


হারুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীর মতো আড়ৎ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করেন। মাছ বিক্রির পর টাকা আদায় করে সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের পরিশোধ করাই তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশ।


তিনি দাবি করেন, গত ১৩, ১৪ ও ১৫ আগস্ট তিন দিনে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮০ টাকার মাছ ক্রয় করেন। পরে এসব মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মাছ বিক্রির টাকা আদায় করে সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের পরিশোধ করার কথা ছিল বলেও জানান তিনি।


হারুন অর রশীদ বলেন, গত ১৬ আগস্ট মাছের টাকা আনতে জরুরি ভাবে তিনি ঢাকায় যান। এ সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ কিনে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।


পরবর্তীতে এ অভিযোগে পাইকগাছা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। সোলাদানা মৎস্য আড়তের একজন স্বত্বাধিকারীকে বাদী করে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেছেন হারুন।


নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এটা জেনে আমি হতবাক হয়েছি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযোগ তুলে ৪০ লাখ টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, আমি আড়ৎ থেকে টাকা পেলেই সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দেব। আমি ব্যবসা করি। আমার মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।


হারুন আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁকে সমিতি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।


তাঁর ভাষ্য, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নয়জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তাঁকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।


তবে হারুনের অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বলেন, সমিতির ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।


অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মধ্যেও আলোচনা চলছে।

Post a Comment

0 Comments