শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল সম্পর্কে সিন্ডিকেটেড মিথ্যাচার : প্রত্যাখ্যান করে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নিন্দা বিবৃতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:-

সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন মিডিয়াতে ‘দুর্নীতিতে দন্ডিত অ্যাব নেতা খুলনা ওয়াসার ডিএমডি’ শিরোনামে একটি সিন্ডিকেটেড নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। একই হেডিং, ইন্ট্রো, নিউজ বডি এবং কনক্লুশনে ছাপা হওয়া এই রিপোর্ট কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীন অসৎ স্বার্থে করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। খুলনা ওয়াসার ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই জনপদের সন্তান ও কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের মেধাবী ছাত্র প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে বিতর্কিত ও অসম্মানিত করার হীন মানসে যেসব মিথ্যাচার করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ খুলনা শাখা।

বিবৃতিতে পেশাজীবী পরিষদ নেতারা বলেন, পুরো প্রতিবেদনে প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ ত্রুটির সমষ্টিক দায় এককভাবে তার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।  অথচ তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত, ছাদ ঢালাইয়ের সময় তিনি অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। আদৌতেই তিনি জড়িত নন। তিন সদস্যের মুল দায় নিরুপন তদন্ত কমিটি সেভাবেই রিপোর্ট দিয়েছিল। কিন্ত তৎকালীন আওয়ামী আমলের চরম বিতর্কিত, শিক্ষাগত যোগ্যতায় অযোগ্য,  দূর্নীতিবাজ, স্বজনপ্রীতির দায়ে দুষ্ট  উপাচার্য ফায়েকুজ্জামান ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে তার আজ্ঞাবহদের দিয়ে আরেকটি কমিটি করে জুয়েলকে হাস্যকর ভাবে দোষী দেখিয়ে নতুন ভাবে রিপোর্ট দাখিল এবং তাকে অন্যায়ভাবে শাস্তির সম্মুখিন করে। যা আইনী ও প্রশাসনিকভাবে পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়। সহকারী প্রকৌশলী পদে খুবিতে যোগ দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল নিজ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতায় পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়েছিলেন। উপ প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার জন্য যথানিয়মে আবেদন করলেও তাকে প্রতিহিংসাবশত: এক যুগেরও বেশি সময় বঞ্চিত রাখা হয়।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের ত্রুটির কারণে ৫৪ জনের ভুল ডাটা রেকর্ড হয়। যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন তাদেরকে প্রযুক্তিগত হাজিরা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি দেন। কোন শোকজ করা হয়নি। পরবর্তীতে বায়োমেট্রিক ডিভাইসের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির প্রমাণ মেলায় কর্র্তৃপক্ষ অফিস আদেশের মাধ্যমে উক্ত নোটিশটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন। অথচ সিন্ডিকেটেড নিউজে নোটিশ প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হয়।


বিবৃতিতে পেশাজীবী পরিষদ নেতারা আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর একটি কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে দেশের মানুষ চরমভাবে নিগৃহিত ও নিষ্পেষিত ছিল। জাতীয়তাবাদী আদর্শের পেশাজীবীরা সর্বোচ্চ জুলুম নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল ছিলেন সেই নিষ্পেষণের এক নির্মম উদাহরণ। মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে কর্মহীন বসিয়ে রেখে ও প্রমোশন বঞ্চিত করে তাকে সামাজিক, মানসিক, আর্থিক ও পারিবারিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সেই চরম দু:সময়ের কালেও তিনি জাতীয়তাবাদী দল ও পেশাজীবী পরিষদের সকল কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে সশরীরে হাজির থেকেছেন। তার উপস্থিতি ও সক্রিয় ভূমিকা খুলনার পেশাজীবীদের সাহস ও উৎসাহ যুগিয়েছে সর্বোতভাবে। অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চরম বৈরী সময়েও তিনি বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে চলেছেন। ফলে তাদের কষ্ট যন্ত্রণা হতাশা ও বিষাদের কথাগুলো তিনি খুব ভালো করে জানতেন।


চব্বিশের অভ্যূত্থানের পরে প্রশাসনের সর্বস্তরে যে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, তা প্রতিটি সেক্টরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর দালালদের কারণে বিঘ্নিত  হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল সেই অচলায়তন ভেঙ্গে যোগ্য ও কর্মনিষ্ঠ প্রকৌশলীদেরকে তাদের যথাযথ পদে বসানোর জোর প্রয়াস চালিয়েছেন। তার সেই প্রচেষ্টাকে উক্ত প্রতিবেদনে অবৈধ প্রভাব বিস্তার হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল চব্বিশের অভ্যূত্থানের একজন বীর যোদ্ধা, যার যুদ্ধ চলমান ছিল ফ্যাসিস্ট শাসনামলের ১৭ বছর। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অসদাচার, অনিয়মে লিপ্ত থাকার কোন অভিযোগ নেই। বরং বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যেসব বানোয়াট অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সময়ের পরীক্ষার তার সবগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই বলেই এখনও তার চরিত্র হননের মতো ঘৃণ্য ও জঘণ্য তৎপরতা চলমান। পেশাজীবী পরিষদ নেতারা এহেন অপতৎপরতা বন্ধের জন্য জোর দাবি জানান এবং এ সংক্রান্ত যে কোন নিউজ প্রকাশের আগে সকল তথ্য ভালো ভাবে যাচাই বাছাই করে সত্যাসত্য প্রমাণের আহবান জানান। কোন ঘটনার আংশিক প্রকাশ করে বাকি অংশ গোপন রাখাকে বস্তনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বলেনা। বরং সেটি নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ, যা সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার সাথে সাংঘর্ষিক।


বিবৃতিদাতারা হলেন পরিষদের আহবায়ক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের  সাবেক ট্রেজারার অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, সদস্য সচিব ড্যাবের খুমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. সেখ মো: আখতার উজ জামান, অ্যাব সভাপতি প্রকৌশলী ড. খন্দকার আফতাব হোসেন, কৃষিবীদ এস এম ফেরদৌস, সাংবাদিক মো: আনিসুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মাহফিজুর রহমান মফিজ, ড. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ পলাশ, অধ্যাপক ড: প্রকৌশলী শাহজাহান আলী  অধ্যাপক ড: প্রকৌশলী ফারুক হোসেন, সাংবাদিক এহতেশামুল হক শাওন, প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান প্রমুখ।#



Post a Comment

0 Comments