পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত নাইটগার্ডকে দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা ডিউটি করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় টানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওই কর্মচারী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার খড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৩ বছর আগে নাইটগার্ড হিসেবে নিয়োগ পান তুহিন ঢালী নামে স্থানীয় এক যুবক। ওই কর্মচারীকে প্রতিদিন সন্ধা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যালয় পাহারা দিতে হয়। আবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ, গেটে দায়িত্ব পালন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য কাজেও নিয়োজিত রাখা হচ্ছে। ফলে রাতে দায়িত্ব পালন শেষে বিশ্রামের কোনো সুযোগ না পেয়েই তাকে দিনের কাজ করতে হচ্ছে। এভাবে দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা মামুন সানা জানান, একজন নাইটগার্ডের মূল দায়িত্ব রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু তাকে দিনের কর্মচারীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অমানবিক। এতে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী নাইটগার্ড তুহিন ঢালী জানান, চাকরি হারানোর ভয়ে তিনি বিষয়টি মুখ বুজে সহ্য করছেন। তবে দীর্ঘ ৩ বছর টানা কাজ করতে গিয়ে তিনি শারিরিক ও মানষিক চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবদাশ মন্ডল বলেন, "বিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে অমানবিকভাবে কাজ করানোর কোনো উদ্দেশ্য নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, সত্যি যদি কোন প্রধান শিক্ষক কর্মচারীকে দিয়ে বিধির বাইরে অতিরিক্ত ডিউটি কয়ার সেটা বেআইনি। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক অমানবিক কাজ করাচ্ছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভিন(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কোনো কর্মচারীকে সরকারি বিধি-বিধানের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার সুযোগ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহল বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টনে সরকারি নীতিমালা অনুসরণের পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


0 Comments