মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : - খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী।
উপজেলার ৬ নং লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে খড়িয়া খালপাড় অভিমুখে পাইকগাছা জিসি–বাইনতলা বাজার –বগুড়ারচক –গিলাবাড়ি জিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা ও উঁচুনিচু অংশ। কোথাও কোথাও মাটি সরে গিয়ে চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি-কাদা, যানবাহন চলাচল হয়ে পড়ে প্রায় অচল।
৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়ক স্থানীয়দের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৎস্যচাষিসহ হাজারো মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কৃষিপণ্য ও রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক, রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুইযুগ ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী, অভিজিৎ মন্ডল জানান, আমাদের এলাকা চিংড়ি ঘের অধ্যুষিত এলাকা। প্রচুর চিংড়িসহ অন্য মাছ উৎপাদন হয়। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি অনুপযোগী হওয়ায় মৎস্য আড়তে পৌঁছাতে দেরি হয়, ফলে মাছের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই।
সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এমনই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মো. জাহাঙ্গীর আলম সানা বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী, মো. শাফিন শোয়েব জানান, খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিপিপিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় এটি ২ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজটি শুরু হবে।


0 Comments