রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল :-
বিএনপি সরকার সবসময় পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে আন্তরিক। দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, বনভূমি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে, খাল-বিলের তীরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ ও সরকারি স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান, দেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে মন্তব্য করেছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
বৃক্ষমেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সরদার মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় কয়রার বেদকাশী কাছারীবাড়ী ঐতিহ্যবাহী বটতলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (১১ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এই অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সবাই মিলে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে ও পতিত জমিতে বেশি করে গাছ লাগাই।
সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় সহ পরিবেশের বায়ুদূষণ, বন্যা, খরতাপ, নদীভাঙ্গন রোধ, বজ্রপাত প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি সবুজায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন।
মনিরুল হাসান বাপ্পি আরও বলেন, কয়রা-পাইকগাছার অর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক ছোঁয়া শুধুই নয় অত্যাধুনিক ভাবে এই অঞ্চল কে গড়ে তুলতে চাই। এই অঞ্চলের জন্য ইতিমধ্যে হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, স্কুল, কলেজের নতুন নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কে জাতীয় জাতীয়করনে কাজ করছি, অনেক গুলোর যৌক্তিকতার আলোকে চিঠি ইস্যু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো জাতীয়করণ হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পাইকগাছা খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম শামীম কবির,ডা: আব্দুল মজিদ, নূরুল আমিন বাবুল,এম এ হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, জেলা জাসাস আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সহিদ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনিরুজ্জামান বেল্টু, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ, জামাল জাফরিন, ডিএম হেলালউদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ কাজল, আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মামুন হাসান, এহসানুল ইছান, জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।
বৃক্ষ মেলায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর বেদকাশি ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ মেলা ২৬ বছর ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। মেলায় উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি শতাধিক স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে জেলা পরিষদ প্রশাসক প্রদর্শিত চারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ বৃক্ষ মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
পরে তিনি কয়রার সেন্ট্রাল হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। এবং কয়রা উপজেলা জামে মসজিদে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


0 Comments