শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

পাইকগাছায় জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেল সড়ক, দুর্ভোগে মানুষ

পাইকগাছা প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় নির্মাণকাজের ধীরগতির মধ্যে জোয়ারের পানির চাপে তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একটি অংশ ভেঙে গেছে। এতে গত তিন থেকে চার দিন ধরে ওই সড়কে যান চলাচল ও মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। নদী ও লোনা পানির ঘেরবেষ্টিত এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আমফান প্রকল্পের’ আওতায় শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাঠামারি বাজার হয়ে তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা অংশটি সম্প্রতি জোয়ারের পানির চাপে ভেঙে যায়। ফলে নদী ও ঘেরের লোনা পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে।


সড়কটির পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স। কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা। গত বছরের ১৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্গম এলাকায় বালু সরবরাহে সমস্যার কারণে কাজের গতি কমেছে। স্থানীয়ভাবে বালু না পাওয়ায় দূরের কাটামারী এলাকা থেকে বোট ও পাইপের মাধ্যমে বালু আনা হচ্ছে। এ কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল।


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়কের শুরুর অংশ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় খোয়া বিছানোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে শেষ দিকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ফুট অংশে বালু ভরাট বাকি ছিল। ওই অংশটি নিচু হওয়া এবং সেখানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় সাম্প্রতিক জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে যায়।


সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙা অংশ পার হতে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও বই-খাতা ভিজিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়া এবং হাট-বাজারে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোনা পানির ঘের থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ও জোয়ারের চাপে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সড়কটি দুর্বল অবস্থায় ছিল। দ্রুত বালু ভরাট ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও তাঁরা মনে করেন।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।


স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙা অংশ সংস্কার করে সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণ এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।চাইলে এটিকে আরও চটকদার অনলাইন নিউজ স্টাইলে, অথবা সময় টিভির আদলে টিভি প্যাকেজের স্ক্রিপ্ট হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।

Post a Comment

0 Comments