পাইকগাছা প্রতিনিধি : - ডান পা নেই। ১৫ বছর আগে হাঁটুর নিচ থেকে পা কেটে ফেলতে হয়েছিল জহুরা বেগমের (৬০)। এরপর থেকে ক্রেচে ভর করে চলাফেরা করেন তিনি। সেই ক্রেচটিই কেড়ে নিয়ে তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এতে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয়েছেন এই প্রতিবন্ধী নারী।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে গত ৮ আগস্ট দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত জহুরা বেগম বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে তিনি নিজেই পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জহুরা বেগমের অভিযোগ, ৮ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে তিনি প্রতিবেশী জালাল সরদারের পুকুরে গোসল করতে যান। সেখানে তাঁকে দেখে আতিয়ার সরদারের ছেলে রণি সরদার (২২), খোদাবক্স সরদারের ছেলে আতিয়ার সরদার (৪৫) ও কালাম সরদার (৫০) তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা তাঁর সঙ্গে থাকা ক্রেচ কেড়ে নেন। পরে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
জহুরা বেগম বলেন, মারধরের একপর্যায়ে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। এতে মাথার তালু ফেটে রক্তাক্ত হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত পান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর থানায় অভিযোগ করেন জহুরা বেগম।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিদিনের চলাফেরায় ক্রেচই তাঁর প্রধান ভরসা। সেই ক্রেচ কেড়ে নিয়ে তাঁকে মারধরের ঘটনায় তিনি এখন আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতিয়ার সরদার। তিনি বলেন, জহুরা বেগম তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে দেখলে জুতাপেটা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানতে বাড়ির নারীরা জহুরার কাছে গেলে তাঁদের মধ্যে ঘটনা ঘটে। তবে মারধরের ঘটনায় তিনি নিজে জড়িত নন বলে দাবি করেন আতিয়ার।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওয়াল কবীর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


0 Comments