শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

পাইকগাছার বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের ওপর বড় গর্ত, ভাঙনের শঙ্কা

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা প্রতিনিধি: - খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের ওপর হঠাৎ বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের নিচে স্লুইজ গেটের কাঠামোর ভেতরের অংশও দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে স্লুইজ গেটের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


শনিবার দুপুরে গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইজ গেটের ওপরের পাকা সড়কের একটি অংশ ভেঙে নিচের দিকে দেবে গেছে। সেখানে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তের ভেতর দিয়ে স্লুইজ গেটের নিচের ফাঁকা অংশ দেখা যাচ্ছে। ভাঙা অংশের চারপাশে পাকা সড়কের আস্তরণ, ইট ও মাটির স্তর ছড়িয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা গর্তের পাশে গাছের ডাল পুঁতে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের অন্য অংশেও ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটটি শুধু পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, আশপাশের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। গেটের ওপর দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। ফলে গর্তটি আরও বড় হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


স্থানীয় বাসিন্দা শিলাদিত্য রায় বলেন, সড়কের যে অংশে গর্ত হয়েছে, সেটি ধীরে ধীরে আরও বড় হচ্ছে। কোনো ভারী যানবাহন বা অতিরিক্ত চাপ পড়লে ওই অংশ ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


শাকুব গাজী বলেন, গর্তটি দ্রুত মেরামত না করলে স্লুইজ গেটের ওপরের সড়ক ও গেটের কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কোনো অংশ ভেঙে গেলে পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের হাজার হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জনবসতিতেও পানি ঢোকার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা, স্লুইজ গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাইকগাছা পৌরসদর ও গদাইপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পাশাপাশি লতা ও দেলুটী ইউনিয়নের একাংশের সঙ্গে পাইকগাছা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর হাওলাদার বলেন, গর্তটি বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও এর নিচের মাটি ও কাঠামো ক্ষয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। গর্তটি বড় হতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়তে পারে। এতে যান চলাচলের পাশাপাশি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়বে।


গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিল্লাল হোসেন বলেন, বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের ভাঙন এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। পরে ভাঙনের ছবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে।


পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মোতালেব হোসেনের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এরশাদ আলী বলেন, আমি বাইশারাবাদ স্লুইজ গেট পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গর্ত আরও বড় হয়ে সড়ক ও স্লুইজ গেটের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে পানি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ছোট একটি গর্তই পরে বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য প্লাবন ঠেকাতে কচুবুনিয়া স্লুইজ গেটটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Post a Comment

0 Comments