শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

পাইকগাছায় স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

পাইকগাছা প্রতিনিধি : - খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তের সময় অভিযোগে স্বাক্ষরকারী তিনজনের মধ্যে দুজন দাবি করেছেন, তাঁরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।


সোমবার দুপুর থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ তদন্ত কার্যক্রম চলে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে তদন্ত করেন তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। তদন্তে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৩৪ জন প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, উচ্চ আদালতে করা রিট পিটিশন নম্বর ৩২১৪/২০১৮-এর রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এ অর্থ উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও ৭৭ নম্বর পূর্ব কাসিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম বলেন, ‘আমি সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয় চলাকালে কোথাও যেতে পারি না। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগকারীদের একজন হাফিজুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ করা হয়েছে। যিনি তাঁর স্বাক্ষর জাল করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অন্য অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল তদন্তে উপস্থিত ছিলেন না। তবে মুঠোফোনে তদন্ত কর্মকর্তাকে তিনি জানান, কোনো অভিযোগে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার অভিযোগটি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এ বক্তব্যের পর উপস্থিত প্রধান শিক্ষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জাল ও মিথ্যা অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পাইকগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ সমিতির সদস্য। ১০ম গ্রেডের বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। তাঁর দাবি, শিক্ষক সমিতির সদস্যদের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে অন্য শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাক্ষর জালকারী ও মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে এর আগে দুই দফা তদন্ত হয়েছে। সোমবারের তদন্তটি শেষবারের মতো করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

প্রেরক
মোঃ আসাদুল ইসলাম।
পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি।
০১৯১৭-৮২৮২৮০

Post a Comment

0 Comments