পাইকগাছা প্রতিনিধি : - খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সবুজ পল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্য, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, সভাপতি পদে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত না হওয়ায় একটি পক্ষ কমিটি অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক বলেছেন, বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিটির তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হবে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ২৮ জুন অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ১২ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। পরে সভাপতি পদে তুষার কান্তি মণ্ডল ও নিতীশ মণ্ডলের মধ্যে ভোটাভুটি হলে উভয়েই সমান ছয়টি করে ভোট পান। এ অবস্থায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির এক শিক্ষার্থী লটারির মাধ্যমে তুষার কান্তি মণ্ডলকে সভাপতি নির্বাচিত করে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য রাজীব মণ্ডল ও ডা. সুভাষ মণ্ডলসহ কয়েকজন অভিভাবকের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই সবাই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। কিন্তু পরে প্রধান শিক্ষকের পছন্দের ব্যক্তি সভাপতি নির্বাচিত না হওয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতির বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির তালিকা জমা না দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
তাঁদের আরও দাবি, নির্বাচনের প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কমিটির তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়নি। এর মাধ্যমে নতুন কমিটি বাতিল বা বিলম্বিত করে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার মণ্ডল বলেন, "অভিযোগ হয়েছে কি না, সেটি আমার জানা নেই। কমিটির তালিকা জমা দেওয়ার জন্য এক মাস পর্যন্ত সময় রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খুব দ্রুত তালিকা জমা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, "কমিটির তালিকা আমাদের কাছে এলে এবং কোনো জটিলতা না থাকলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট এ বিরোধের দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান চান অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের নিরপেক্ষ উদ্যোগে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।


0 Comments