স্টাফ রিপোর্টার: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বিলের এক মৎস্য ঘেরের বাসায় জুয়া খেলা অবস্থায় ৪ জন জুয়াড়ীকে হাতেনাতে আটক করেন আশাশুনি থানার এএসআই মিলন হোসেন ও এএসআই সাইফুল ইসলাম। তবে আটক করার পর তাদেরকে থানায় না নিয়ে ঐখানে বসে শুরু হয়ে উৎকোচ গ্রহনের চুক্তি। এরপর সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী সর্বমোট ১৫ হাজার ৫০০ টাকা উৎকোচ দিলে এএসআই মিলন হোসেন ও এএসআই সাইফুল ইসলাম আটককৃতদের ঐখান থেকেই ছেড়ে দেন।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার দুপুরে গোয়ালডাঙ্গা বিলের অমল কৃষ্ণ মন্ডল এর মৎস্য ঘেরের বাসা থেকে জুয়া খেলার সময় গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজীর ছেলে হানিফ গাজী, একই গ্রামের আব্দুল গফ্ফার গাজীর ছেলে হারুন গাজী, লক্ষী কান্ত রাহা এর ছেলে চন্ডী রাহা ও শিবপদ রাহা এর ছেলে মঙ্গল রাহাকে হাতেনাতে আটক করেন এএসআই মিলন ও এএসআই সাইফুল ইসলাম। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর জুয়াড়ী একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ফকিরের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ফকির দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর পালিয়ে যেতে না পারা ৪জনকে আটক করে ঐ ঘেরের বাসায় রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঐ স্থানে একে এক উপস্থিত হন আটককৃতদের অভিভাবক ও স্বজনরা। তারপর শুরু হয় উৎকোচ গ্রহনের আলোচনা। এসব দৃশ্য আশেপাশে বসে দেখতে থাকেন এলাকার শত শত বিভিন্ন বয়সের মানুষ। প্রথমে চারজন বাবদ স্বজনরা ৪ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। তখন এএসআই মিলন ও এএসআই সাইফুল ইসলাম তাদেরকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে এবং একে দিতে হবে, তাকে দিতে হবে, বলে সর্বশেষ তাদের স্বজনদের এর নিকট থেকে জৈনক চন্দ্র কান্ত এর মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করে তার জিম্মায় ২/৩ ঘন্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেন। এর আগে জুয়াড়ী হানিফ গাজীর পকেট থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হলেও সেটা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
কাজেই তারা সর্বমোট ১৫ হাজার ৫০০ টাকা উৎকোচ নিয়ে ঐ জুয়াড়ীদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন বললেও বে-মানান হবে না। ছেড়ে দেওয়ার সময় ঐ জুয়াড়ীদের এক জায়গায় দাড় করিয়ে কারও টাকা দিইনি মর্মে বলতে বাধ্য করিয়ে ভিডিও করে নেওয়া হয় এবং কাউকে বলতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু বে-রসিক জনসাধারন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কর্মকান্ড দেখেছেন তা আর তাদের মনে ছিল না।
এরপর গ্রামে ও বাজারঘাটে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলেন, বর্তমান সরকার ঘুষ ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আশাশুনির থানার বর্তমান ওসি গোলাম কবির অফিসারদের সব সময় সকল অপকর্মের উর্দ্ধে থেকে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এএসআই মিলন হোসেন ও এএসআই সাইফুল ইসলাম কোন কিছু না মেনে উৎকোচ নিয়েই চলেছেন।
এব্যাপারে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির এর কাছে জানার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল রাতে ঐ দুইজন পুলিশ অফিসার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের বলাই মন্ডল এর ছেলের নিকট থেকে তামাক গাছকে গাঁজা গাছ বানিয়ে ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন।
এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে উৎকোচ গ্রহনের অনেক অভিযোগ আছে। ভূক্তভোগীরা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। কাজেই ঐ দূর্নীতিবাজ দুই পুলিশ অফিসারের যথাযথ শাস্তির দাবী জানিয়ে পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।


0 Comments