শিরোনাম

10/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।

আশাশুনি শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র সংস্কারের নামে অর্থ অপচয় ও লোপাট চেষ্টার অভিযোগ

 



আশাশুনি প্রতিনিধি :-

সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আশাশুনিতে কেন্দ্র মেরামতের নামে অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে। অনুগত প্রধান শিক্ষকদের ভোট কেন্দ্র সংস্কারে মোটা অংকের বরাদ্দ দিয়ে নিজেই সেসব অর্থ আত্মসাত করবেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক।

এই স্বপন কুমার বর্মন আশাশুনিতে যোগদানের পর থেকেই নিয়ম নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজের খেয়াল খুশি মতো নিজের দপ্তর চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ এখন সব ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মুখে মুখে। তার পরেও বহাল তবিয়তে দুর্নীতির আখড়ার পরিচালক হিসেবে শিক্ষক কর্মচারীদের হয়রানি করে যাচ্ছেন তিনি।

জানাগেছে, রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট কেন্দ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বাঁকড়া সপ্রাবি- ৫০ হাজার, কামালকাটি সপ্রাবি-৭০ হাজার, বলাইপুর সপ্রাবি-৫০ হাজার, বৈকরঝুটি সপ্রাবি-১লক্ষ, দক্ষিন চাপড়া-৫০ হাজার, শ্রীধরপুর সপ্রাবি-৭০ হাজার, রামনগর সপ্রাবি-১লক্ষ, বড়দল দক্ষিণ সপ্রাবি-২৫ হাজার, বড় দূর্গাপুর সপ্রাবি-৭০ হাজার, নাংলা সপ্রাবি-১লক্ষ ও প্রতাপনগর সপ্রাবি-১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সংস্কার ও মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র গুলোতে ৫টি এসি/ডিসি বাল্ব, কয়েকটি রড লাইট ও সামান্য টুক টাক সংস্কার প্রয়োজন। যে সংস্কার বা মেরামত গুলো ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে বা হচ্ছে। আনুমানিক হিসেব করে বা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বক্তব্য মতে অনেক কেন্দ্রে বরাদ্দের ৫০% এবং কিছু কেন্দ্রে বরাদ্দের ৩০% খরচ হওয়ার কথা না। বলাইপুর সপ্রাবি এ সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সেখানে সংস্কার বা মেরামতের জন্য ৫টি এসি/ডিসি বাল্বই যথেষ্ট।

কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সত্ত্বেও ১১ টি প্রতিষ্ঠানের ভোট কেন্দ্রের মধ্যে শোভনালী ইউনিয়নে একই ক্লাস্টারে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র এ তালিকায় রাখা হয়েছে।

পক্ষান্তরে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র গুলো ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কার উপযোগি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রের নাম এ তালিকায় নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, টিইও'র অনুগত ও বিশ্বস্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ দেয়া হয় না।

শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া সপ্রাবি ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে শৌচাগার নেই। কিন্তু সেখানে কোন বরাদ্দ না দিয়ে আধুনিক শৌচাগার থাকা বলাইপুর স্কুলে বরাদ্দ দিয়ে টাকা তুলেছেন। প্রাচীর বিহীন স্কুল গুলোতে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি কোথাও রঙ করিয়েছেন, কোথাও অস্থায়ী টিনসেড ঘর বা অহেতুক খরচ দেখিয়ে ভাউচার জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনেও এই ফর্মুলা ব্যবহার করে ভাউচার জমা নেয়া হয়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান।

বলাইপুর সপ্রবি এ বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে দেওয়ালে কিছু রং করা হয়েছে। কেন্দ্রের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনীর কথা বললে সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্ব নিয়ে বলেন "এখানে নিরাপত্তা ব্যাঘাত ঘটার মত ঘটনা ঘটবে না।"

এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মন বরাদ্দের চাহিদা পত্র না দেখিয়ে বলেন, আমাদের তালিকার বাইরেও উপর থেকে বরাদ্দ এসেছে। অন্যান্য অভিযোগ গুলো তিনি সরাসরি এড়িয়ে গেছেন।

স্বপন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়।  নাকনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬০০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানাগেছে, নতুন ভবনের নির্মাণের জন্য ঠিকাদার স্কুল থেকে বিদ্যুতের সাইট লাইন নিয়ে প্রধান শিক্ষক নুরে আজমের কাছে ২৬ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশ দ্বিতীয় বারের মত ২৬ হাজার টাকার বিল পাশ করিয়ে নিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে টিইও'র সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১মাসের বিদ্যুৎ বিল ২৬০০০ টাকা হচ্ছে। সেটা অনুমোদন করার জন্য আপনার স্বাক্ষর লাগছে, আবার আপনি বলছেন বিষয়টি জানা নেই, এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি অন্য বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু দৈনিক দৃষ্টিপাতকে বলেন, উনার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে উল্লেখিত বিষয় নিয়ে স্কুল গুলো পরিদর্শন, প্রধান শিক্ষকদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথাবার্তা ও সর্বশেষ টিইও'র বক্তব্য নেওয়ার পর এ বিষয়ে টনক নড়তে দেখা দেখে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের। সংস্কারের আওতায় থাকা ১১ টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সংস্কার বা মেরামতের বর্তমান অবস্থা, অগ্ৰগতি ও আগামিতে কি কি মেরামত করা হবে তার ভিডিও পাঠাতে নোটিশ করা হয়েছে।




Post a Comment

0 Comments